এই তো আমি
এইখানে নয়— কোনও এক ‘খানে
আমাদের একদিনের পথে শতদিন হারায়ে গিয়ে—
মনে হয় না’কো কোনদিন পরে’
আরও দিন থাকে;
ততদিনে ক্ষয়ে যাবে আরও একটি দিন
খসে যাবে কত নামহীন নক্ষত্র
প্লাটফর্ম ছেড়ে চলে যাবে ট্রেন
তবু মনে রয়ে যাবে তার রেশ!
এইখানে হেমন্তের মেয়েলি একটি বিকাল ছিল’ যেমন সত্য—
ছিল মাগরিবের করুন সন্ধ্যা;
ছিল বাঁধন হারা নিঃসঙ্গ একটা বাছুর;
এটা যেমন সুনিপুণ সত্য—
এইখানে এখন নিবিড় রাত্রি
ভেসে আসা কিছু মউতের গন্ধ তেমনি সত্য।
গত হওয়া বার
মনে পড়ে আবার;
ভুলে যাওয়া কারবার তোমার আমার।
প্রবেশ করলে না পরস্পর—
যেভাবে রাত প্রবেশ করে দিনের ভেতর
আর দিন রাতের ‘পর;
পাশ কেটে চলে যাও—
যেমন করে চলে যায় পাহাড়ের কান্না ভুলে গিয়ে নদী
কবরের পাশ দিয়ে চলে যায় বিপন্ন পথিক।
বাগানে এক পায়ে দাড়িয়ে থাকা রাবার বৃক্ষরাজি জানে—তাদের দূরত্ব কতদূর?
শতবর্ষ খোয়ায়ে গিয়েও গোছায় না দূরাদূর
তবুও তো দাঁড়ায়ে থাকে রাত দুপুর।
আমি কতবার একা হতে গিয়ে একা হতে পারিনি
একা একা কতবার ধরেছি গূঢ় গোরস্তানের পথ
দীর্ঘায়িত করেছি পুরো শহরের মানচিত্র
ফেলে গেছি অসংখ্য পদচিহ্ন—
ভুলে গিয়ে স্থান-কাল-পাত্র।
ততবার মনে হয়েছে শুধু— আমার গোপন শ্বাস
ছেয়ে গেছে তোমার অতলস্পর্শি কোমল মাখা হাত;
মনে হয়েছে তোমার হৃদয় যেন আমার হৃদয়ের ছাপ;
তবুও কেন আমাদের হৃদয়ে শুধু বিরহের দাগ?
তুমি তো জানো— নিথর দেহ পাশে রেখে
কেটে গেছে আমাদের কত রাত!
গভীর জলে ডুব দিয়ে মুছে গেছে সমুদয় পাপ
সবটুকু জল তবুও হাওয়ায় মিশে—
পথ ভুলে সব নদী গিয়েছে মরে;
তর্জমা করতে করতে—
ফুরায়ে গেছে যত শব্দ ভান্ডার;
তবুও তুমি মুখ ফসকে ভুলে গিয়ে
গোপন পর্দা ছিঁড়ে
বললে না, ‘এই তো আমি’— একটিবার;
শুধু একটিবার।
জানি, জীবন একার
জন্ম একার, মৃত্যু একার
বেঁচে থাকা তবু একার নয়;
বড়ই পাতা ধুয়া দেহ একার
নদী, ঝর্ণা কিংবা বৃষ্টি ভেজা দেহ তবু একার নয়।
আমি পৃথিবীর হতে গিয়ে,
সর্বজনীন হতে গিয়ে,
তোমার হতে গিয়ে—
শুধু আমার হয়ে যাই।
একান্ত আমার হতে গিয়ে—
শুধু তোমার হয়ে যাই
সামনে যেতে যেতে তবুও
পিছনে ফিরে যাই।
শেষে, অবশেষে, পরিশেষে
আমাদের দেখা হবে;
দেখা হবে সব কিছু ভুলে গিয়ে—
সব তারা খসে গিয়ে
সমস্ত দুর্বোধ্য প্রাচীর ভেদ করে
কোনও এক শ্বাশত মহলে—
কোনদিন ‘পরে!
মনে হবে— এই তো আমি— এইখানে আছি।
কবি: কচি
