সভ্যতার লাশ
প্রতিটি শহরের শরীরে,
একেকটি বস্তি-
সভ্যতার পরাজয়ের নিদর্শনস্বরূপ
মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে আছে।
মানুষ ওদিকে মনযোগ দেয় না;
কারণ বস্তিগুলোতে-
জীবিত-মৃত মানুষের বাস…!
ওরা নিজেরাও মরতে চায়,
মৃত্যু ওদের কাছে-
একমাত্র মুক্তির সমতুল্য।
কিন্তু স্বেচ্ছামৃত্যুর শেষ অধিকারটুকুও
ওদেরকে দেওয়া হয়নি।
ওদেরকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র-
‘তথাকথিত সভ্যদের তথাকথিত সভ্যতাকে
চাকচিক্যময় করে তোলার রসদ হিসেবে।’
এই সভ্যতার অসংখ্য ঈশ্বর-
ওদের কপালে সাধারণ মৃত্যু লিখে রাখেনি।
প্রতিটা ফ্যাক্টরীর পরিকল্পিত
অগ্নিসংযোগের ভয়াবহতার মাঝে,
ওদের মৃত্যুগুলো লেখা থাকে।
আগুন সাম্যবাদীর মতো-
ওদের সবাইকে সমানভাবে পুড়িয়ে যায় ;
তখন আর ওদেরকে
আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায় না।
ওরা তখন সবাই মিলে
হয়ে ওঠে একটি ‘লাশ’-
যাকে ‘সভ্যতার লাশ’ হিসেবে চিনতে,
একটুও অসুবিধা হয় না।
কবি: নির্দয় দার্শনিক
